প্রচ্ছদ > বিনোদন >

‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’—শাহরুখের সংলাপ দিয়ে ট্রাম্পকে ইরানি দূতের জবাব

article-img

আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে এবার জায়গা করে নিল বলিউডের রূপালি পর্দার সংলাপ। সিনেমা হলের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের রসায়নে যোগ হলো মেগাস্টার শাহরুখ খানের সেই বিখ্যাত সংলাপ— ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’ (সিনেমা এখনো শেষ হয়নি)। 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে এই নাটকীয় পন্থা অবলম্বন করেছে মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট। 

কিছুদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরান সম্পর্কে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ-শক্তি আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই ইরানের কনস্যুলেট পাল্টা প্রচারণা শুরু করে। 

সম্প্রতি ইরানি কনস্যুলেট তাদের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনীর উচ্চগতির বোটের মহড়া ও নিখুঁত লক্ষ্যে মিসাইল উৎক্ষেপণের দৃশ্য। 

সেই সঙ্গে ভিডিওতে ইরানের নৌ-প্রস্তুতির একটি শক্তিশালী মহড়াও দেখানো হয়।

ভিডিওর ক্যাপশনে তারা সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও তার দাবির তীব্র সমালোচনা করে। কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে বলা হয়, আধুনিক সমরাস্ত্র ও কৌশলী বাহিনী কীভাবে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তা সাম্প্রতিক ঘটনাবলিই প্রমাণ করে। 

তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ ছিল শাহরুখ খানের ২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ওম শান্তি ওম’-এর সংলাপের ব্যবহার। 

ভিডিওর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বার্তায় বলা হয়- ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’। এর মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চেয়েছে যে, ট্রাম্প ইরানকে যতটা দুর্বল ভাবছেন পরিস্থিতি আসলে তেমন নয়; বরং আসল লড়াই বা ‘ক্লাইম্যাক্স’ এখনো সামনে রয়ে গেছে। 

আন্তর্জাতিক রাজনীতির মতো গম্ভীর বিষয়ে বলিউডের এমন পপ-কালচারাল রেফারেন্সের ব্যবহার দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা একে ‘কূটনীতির নতুন ধরণ’ হিসেবে দেখছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ভারতীয় সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে ইরানের নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই কৌশলটি বেশ বুদ্ধিদীপ্ত।